মামাইক্রোওয়েভ রেডিও সিস্টেম সাধারণত ১ গিগাহার্টজ (GHz) এর উপরে ফ্রিকোয়েন্সিতে কাজ করে। এই সিস্টেমগুলো প্রধানত লাইন-অব-সাইট বা ফ্রি-স্পেস প্রোপাগেশন মডে-এ কাজ করে — হোক সেটা গ্রাউন্ড বা স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন।
ইতিহাস ও ব্যবহার
১৯৫০ সাল থেকেই দীর্ঘ দূরত্বের টেলিফোন যোগাযোগের জন্য মাইক্রোওয়েভ সিস্টেম ব্যবহার হয়ে আসছে। এটি হাজার হাজার টেলিফোন চ্যানেল এবং একাধিক টেলিভিশন চ্যানেল একই ট্রান্সমিশন রুট ও ফ্যাসিলিটির মাধ্যমে ট্রান্সফার করার জন্য যথেষ্ট ব্যান্ডউইথ ও নির্ভরযোগ্যতা প্রদান করে।
মাইক্রোওয়েভ সিস্টেমের প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য
- ফ্রিকোয়েন্সি রেঞ্জ: সাধারণত ৩ থেকে ১২ গিগাহার্টজ (GHz)
- পাওয়ার আউটপুট: সাধারণত ১ ওয়াটের কম
- অ্যান্টেনা টাইপ: উচ্চ গেইন এবং দিকনির্দেশক (Highly directional)
রিপিটার স্টেশন ব্যবস্থাপনা
যেহেতু মাইক্রোওয়েভ সিগনাল কেবল লাইন-অব-সাইটে চলাচল করে, তাই প্রতি প্রায় ৫০ কিলোমিটার পরপর রিপিটার স্টেশন স্থাপন করতে হয়।
একটি সাধারণ মাইক্রোওয়েভ চ্যানেলের গঠন:
- দুটি টার্মিনাল স্টেশন
- এক বা একাধিক রিপিটার স্টেশন
ট্রান্সমিশন প্রসেস
- শত শত টেলিফোন চ্যানেল এবং/বা একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে ফ্রিকোয়েন্সি মাল্টিপ্লেক্সিং করে ৬ মেগাহার্টজের একটি বেসব্যান্ড সিগনাল তৈরি করা হয়।
- এই বেসব্যান্ড সিগনালটি একটি ৭০ MHz IF সিগনালকে ফ্রিকোয়েন্সি মডুলেট করে।
- এরপর এটি ৪ GHz ব্যান্ডে আপ-কনভার্ট করে মাইক্রোওয়েভ ফ্রিকোয়েন্সিতে পাঠানো হয় (f1)।
- এই সিগনালটি একটি দিকনির্দেশক অ্যান্টেনা ব্যবহার করে পরবর্তী রিপিটার স্টেশনে পাঠানো হয়।
- রিপিটার স্টেশনে এটি রিসিভ করে ডাউন-কনভার্ট করা হয় এবং আবার নতুন ফ্রিকোয়েন্সি (f2) তে আপ-কনভার্ট করে পরবর্তী স্টেশনে পাঠানো হয়।
রিপিটার চেইনে ফ্রিকোয়েন্সি অদলবদল
যখন একটি সিগনাল একাধিক রিপিটার চেইনের মধ্য দিয়ে যায়, তখন প্রতিটি বিকল্প লিংকে ভিন্ন ভিন্ন ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করা হয়। এর ফলে কোনো রিপিটার থেকে পাঠানো সিগনাল আবার সেই একই রিপিটারের রিসিভারে ফিরে আসে না — এতে ইন্টারফেরেন্স এড়ানো যায়।
দুই-দিকের যোগাযোগ ব্যবস্থা
কিছু মাইক্রোওয়েভ সিস্টেমে দুই-দিকের (two-way) চ্যানেল পেয়ার ব্যবহৃত হয় এবং সেক্ষেত্রে রিপিটার স্টেশনগুলোতে জটিল ফ্রিকোয়েন্সি সুইচিং সিস্টেম প্রয়োগ করা হয়।


