→হ্যামিং কোড:
ত্রুটি সংশোধনের জন্য ব্যবহৃত কোডগুলির মধ্যে সর্বাধিক ব্যবহৃত কোড হল হ্যামিং কোড। এতে, n ডেটার সাথে k প্যারিটি বিট যোগ করে n + k বিট ডেটা তৈরি করা হয়। এই বিটগুলির অবস্থান n + k এর মধ্যে। প্যারিটি বিটের অবস্থান 2 এর ঘাত আকারে প্রাপ্ত মান দ্বারা নির্ধারিত হয়, অর্থাৎ 1, 2, 4, 8 ইত্যাদি। এবং অবশিষ্ট অবস্থানগুলি হল ডেটা বিট। এই কোডটি যেকোনো মান বা দৈর্ঘ্যের ডেটার জন্য ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ : ধরি, 7 (সাত) বিটের একটি ডাটা 1011001, এতে প্যারিটি বিট যুক্ত করা হয়েছে যার পজিশন যথাক্রমে ১ম, ২য়, ৪র্থ ও ৮ম । ফলে ডাটাটি হয় নিম্নরূপ—
1 0 1 P4 1 0 0 P3 1 P2 P1
11 10 9 8 7 6 5 4 3 2 1 →বিট পজিশন
হামিং বিটগুলো নির্ণয় করার জন্য কোডের যে-সব স্থানে 1 আছে তা শনাক্ত করা হয়। এক্ষেত্রে 3, 7, 9 এবং 11 নং স্থানে রয়েছে। এখন এ সংখ্যাগুলোকে বাইনারিতে রূপান্তর করে যোগ করলে নির্ণেয় হ্যামিং কোডগুলো পাওয়া যাবে। তবে যোগ করার সময় হাতের অঙ্ককে বাদ দিতে হবে।
এখানে,
3 = 0 0 1 1
7 = 0 1 1 1
9 = 1 0 0 1
11 = 10 1 1
0 1 1 0
P4 P3 P2 P1
অর্থাৎ, P1 = 0, P2 = 1, P3 = 1 এবং P4 = 0
এ বিটগুলো P এর স্থলে বসিয়ে হ্যামিং কোড পাওয়া যাবে। সুতরাং নির্ণেয় হামিং কোড—
1 0 1 0 1 0 0 1 1 1 0
11 10 9 8 7 6 5 4 3 2 1→বিট পজিশন
রিসিভারে এ কোডের যে-সব স্থানে । আছে যে-সব স্থানের সংখ্যা মানকে বাইনারিতে রূপান্তর করে তা আবার যোগ করে পরীক্ষা করে দেখতে হবে যে, যোগফল 0 কি না। যদি যোগফল হয় তবে বুঝা যায় যে, গৃহীত ডাটাতে কোনো ভুল নেই, নতুবা ভুল আছে। উক্ত হামিং কোডের 2, 3, 4, 7, 9 এবং 11নং স্থানে 1 রয়েছে।
উপসংহার:
হ্যামিং কোড একটি ত্রুটি শনাক্তকরণ ও সংশোধন পদ্ধতি (Error Detection and Correction Code)।
এর মাধ্যমে একক বিটের ত্রুটি (Single Bit Error) সহজেই সনাক্ত ও সংশোধন করা যায়।
ফলে, এটি ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থায় ডেটার নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করে এবং তথ্য প্রেরণকে অধিক সুরক্ষিত করে তোলে।


